নেতৃত্ব বিষয়ক কোর্সে হার্ভার্ডের একজন অধ্যাপক আমাদের বলেছিলেন, ‘যাদের সঙ্গে তোমাদের মতের অমিল, তাদের সঙ্গেই বেশি কথা বলো। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করো।’ তাঁর একটা সহজ পরামর্শ ছিল। কেউ যদি এমন কিছু বলে যা একজনের চিন্তাভাবনার সম্পূর্ণ বিপরীত, তাহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে বরং আগ্রহ প্রকাশ করে বলতে হবে, ‘এ বিষয়ে আমাকে আরও বলুন।’
আমরা কি বিভিন্ন বিষয়ে সবার দৃষ্টিভঙ্গি জানার এবং বোঝার ব্যাপারে আগ্রহী? নাকি নিজের মতটাই ‘একমাত্র সত্য’ বলে মনে করছি? অন্যের নিন্দা না করেও যে নিজের মতামত প্রকাশ করা যায়, সে বিষয়টা কি আমরা জানি? রাজনীতি, খেলা, বিনোদন, সমাজে নারীর অবস্থানসহ যেকোনো বিষয়ে কি আমরা গঠনমূলক আলোচনা এবং বিতর্ক করতে পারি, নাকি কিছুক্ষণের মধ্যেই তা কথা-কাটাকাটিতে পরিণত হয়?
সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে ভাবনা এবং জীবনাচরণে আমাদের থেকে কেউ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু তার মানেই সে ‘ভুল’, তা কিন্তু নয়। ইন্টারনেট কি আমাদের মানসিকভাবে উদার করেছে, নাকি আমরা নিজেদের মতো যারা ভাবে শুধু তাদের সঙ্গেই যোগাযোগ রেখে একটা বুদ্বুদের মধ্যে বাস করছি?
অসংখ্য মানুষ প্রতিনিয়ত নানা বিষয়ে মতামত প্রকাশ করছেন—আড্ডায় অথবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কিন্তু সত্যিকারের চিন্তার আদান-প্রদান হচ্ছে কি? অন্যের সঙ্গে মতের বিনিময়ে আমরা কি বিষয়টাকে কিছুটা হলেও অন্যভাবে দেখছি, নিজস্ব অবস্থানকে নতুনভাবে বিচার করছি? নাকি আমরা নিজেদের মত প্রকাশ করে এবং অন্যদের মতামত অবজ্ঞা করেই তৃপ্তি পাচ্ছি?
আমরা যদি নিজেদের মতো আঁকড়ে থাকার মনোভাব নিয়ে কোনো আলোচনা শুরু করি, তাহলে তা খুব বেশি দূর এগোয় না। কীভাবে খোলা মনে অর্থপূর্ণ কথোপকথন করা যায়, সে বিষয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জুলিয়া মিনসনের কিছু পরামর্শ আছে।
তিনি চারটি বিষয় মনে রাখতে বলেছেন, নিজের মতামতটা চাপিয়ে না দেওয়া বা খুব প্রকটভাবে ব্যক্ত না করা; যে দুজনের আলোচনা তাদের মাঝের ঐক্যের বিষয়গুলোতে জোর দেওয়া; অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি স্বীকার করা এবং ইতিবাচকভাবে বিষয়টাকে উপস্থাপন করা।
মোদ্দাকথা হলো, অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ায় পরমতসহিষ্ণুতা, বিশেষ করে বিরোধী মতকে স্থান দেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ।







