যেকোনো ক্ষেত্রে অর্থপূর্ণ অবদান রাখতে হলে শেখার কোনো বিকল্প নেই। আমি বিভিন্ন দেশে কাজ করার সুযোগ থেকেই সবচেয়ে বেশি শিখেছি। সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা, ফিল্ড ভিজিটে গিয়ে শিশু, নারী-পুরুষ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের কথা শোনা, বিভিন্ন মিটিং, সেমিনার ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ—সবই আমাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। বই, প্রতিবেদন, ভিডিও এবং কোনো বিষয়ে লেখার জন্য করা পড়াশোনাও আমার শেখার গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
পেশাগত জীবনের প্রায় দুই দশকে তিনবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে গিয়েছি নতুন করে শেখার জন্য-পাঁচ সপ্তাহ, দশ সপ্তাহ এবং এক বছরের কোর্স করেছি। পাশাপাশি নিয়মিত বিভিন্ন কনফারেন্সে অংশ নিয়েছি। কনফারেন্সে অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত আনন্দের এবং শিক্ষণীয় এক অভিজ্ঞতা। নিজের উপস্থাপিত পেপার নিয়ে অন্যদের মন্তব্য এবং প্রশ্ন আমাকে উদ্দীপ্ত করেছে এবং ভাবিয়েছে। পাশাপাশি অন্যদের পেপার থেকে ও অনেক বিষয়ে জানার সুযোগ পেয়েছি। বিভিন্ন দেশের ডেলিগেটদের সাথে কথাবার্তা বলাও চিন্তা উদ্রেককারী ছিল। কনফারেন্স শেষে নতুন কাজের অনুপ্রেরণা নিয়ে ফিরেছি।
পেশাগত ক্ষেত্রের বাইরেও সাহিত্য, শিল্প-সংস্কৃতি এবং নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে মেলামেশা আমার জীবনের উদযাপন বাড়িয়েছে- অনেক সময় সেখান থেকেও কাজের জন্য নতুন ভাবনা ও শক্তি পেয়েছি।
আমার মতে, পেশাগত উন্নয়নের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত নিজেরই। ভালো সুপারভাইজার ও মেন্টররা পরামর্শ দিতে পারেন, অনুপ্রাণিত করতে পারেন—আমার সৌভাগ্য যে তেমন কয়েকজনকে পেশাগত জীবনে পেয়েছি। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আমি কি অবদান রাখতে চাই, নিজের স্বপ্ন অনুযায়ী কাজ করতে আমার কি ধরণের টেকনিক্যাল, ম্যানেজমেন্ট ও লিডারশীপ সংক্রান্ত জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োজন, তা অর্জনের জন্য কি পদক্ষেপ নিতে হবে সেই বিশ্লেষণ করা এবং সিদ্ধান্ত নেয়া আমার পক্ষেই সম্ভব।
একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর আর চাকরি করব না। কিন্তু যতদিন বেঁচে থাকি, ততদিন নিজের আগ্রহের বিষয়গুলিতে কাজ অব্যাহত থাকবে। খুব দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রাসঙ্গিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হলে অবিরাম নতুন নতুন বিষয়ে শিখে যেতে হবে।







