কয়েক বছর আগে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রোডস স্কলার নির্বাচনে অংশ নিতে অক্সফোর্ড গিয়েছিলাম। যে দশজন শিক্ষার্থী ইন্টারভিউ দিতে এসেছিল তাদের Uncomfortable Oxford Tour এ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অস্বস্তিকর ইতিহাসের মুখোমুখি হওয়া, প্রশ্ন করা, নিজের মত করে বিশ্লেষণের একটা সুযোগ এই ট্যুরে আছে।
ট্যুরে একজন অভিজ্ঞ গাইড অক্সফোর্ডের বিভিন্ন ভবনের সামনে দর্শনার্থীদের নিয়ে গিয়ে কিছু তথ্য দেন, তারপর প্রশ্ন করেন। একেকজন একেক রকম উত্তর দেয়। কোন ভুল-শুদ্ধ নেই-পরস্পরের মতামত জানা, আলোচনাই আসল। যেমন উপনিবেশ আমলে শোষণ করে সম্পদের পাহাড় গড়া কয়েকজন ধনকুবের অক্সফোর্ডের মত প্রতিষ্ঠানে অর্থ দিয়েছে। তাদের কারো কারো মূর্তি ক্যাম্পাসে আছে। এই মূর্তি থাকা-না থাকা নিয়ে বিতর্ক চলমান। যে দশজন শিক্ষার্থী ছিল তাদেরও এবিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত। সবাই নিজের চিন্তা-ভাবনা জানাল; প্রত্যেকেই অন্যের মতামত মনোযোগ দিয়ে শুনল। পরস্পরের মতকে সম্মান করার এই ব্যাপারটা ভালো লেগেছিল।
সেসিল রোডসের অর্থায়নে রোডস স্কলারশীপের শুরু। তিনি রোডাশিয়া (জাম্বিয়া-জিম্বাবুয়ে) শোষণ করেই বিরাট ধনী হয়েছিলেন। তাঁর মূর্তি অক্সফোর্ডে আছে। “রোডস মাস্ট ফল” নামে একটা আন্দোলন কেপ টাউনে শুরু হয়েছিল। তার ঢেউ অক্সফোর্ডেও লেগেছে। কিন্তু অক্সফোর্ডের মূর্তিটা এখনো সরিয়ে ফেলা হয়নি। যারা রোডস বা তার মত ব্যক্তির মূর্তি না সরানোর পক্ষে তারা মনে করেন এসব রেখেও উপনিবেশবিরোধী শিক্ষা দেয়া যায়; কিভাবে ইতিহাস উপস্থাপন করা হচ্ছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আর যারা সরাতে চান, তারা উপনিবেশের সাথে সম্পর্কিত কোন নিদর্শন না রাখার পক্ষে।
ইন্টারভিউ দিতে আসা এক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেছিল, “সেসিল রোডসের প্রচন্ড সমালোচনা আছে যে ট্যুরে সেটায় যে সম্ভাব্য রোডস স্কলারদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে, এটা আমার খুব ভালো লেগেছে।“
রোডস ট্রাস্ট নানা ভাবে অতীতের সাথে reconcile করার উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রত্যেক রোডস স্কলারকেই এই বিষয়টা নিয়ে ভাবতে হয়, কারণ তাদের নামের সাথে সারাজীবনের জন্য সেসিল রোডসের মত একজন উপনিবেশবাদী মানুষের নাম জড়িয়ে আছে। আমিও বিষয়টার সাথে নিজের মত করে বোঝাপড়া করেছি।
কিভাবে জটিল অতীতের মুখোমুখি হওয়া যায়, বর্ণবাদবিরোদী এবং উপনিবেশবাদবিরোধী লেন্স দিয়ে নানা অবজেক্টের নতুন ন্যারেটিভ উপস্থাপন করা সম্ভব-এই ট্যুর তার একটা উদাহরণ। এই ধরণের আরো ট্যুর আছে। নানা জাদুঘরেও অতীতকে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা হচ্ছে।
খোলামনে সবকিছুকে দেখা, প্রশ্ন উত্থাপন, বিশ্লেষণ এবং বিতর্ক করা একটা সমাজকে জীবন্ত রাখে। এভাবে মানুষ নিজের মতামত গঠন করতে পারে, কারো দিক থেকে চাপিয়ে দেয়া কিছু মেনে নিতে বাধ্য হয় না। বাংলাদেশে ভিন্নমতের ব্যাপারে অসহিষ্ণুতা এবং ট্যাগিং-এর প্রবণতা এক্ষেত্রে বিরাট অন্তরায়। এর থেকে মুক্ত না হতে পারলে একটি গণতান্ত্রিক সমাজ গঠন কি আদৌ সম্ভব?
“Discover the stories beneath the spires with a university historian as your guide. We take you on a unique journey through the historic city centre, offering an engaging and rich walking tour about the complex history that has shaped the beauty and grandeur of the Oxford landscape.
Our tours provide newcomers with a good introduction to the city while going beyond the traditional narratives. We highlight histories of race, gender, class, and disability, while raising uncomfortable questions about the lasting legacies of empire. All our guides are university researchers who are passionate about the city, its people, and its diverse history.”
(সুত্রঃ Uncomfortable Oxford Tour ওয়েবসাইট)







