“বাল্যবিবাহ নয়, সমনাগরিক হতে চাই”-এই দাবী নিয়ে বাংলাদেশের কিশোরীরা এসেছিল শহীদ মিনারের সমাবেশে। তখন আমরা অনেকে “বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৬” এর বিশেষ বিধান বাতিলের জন্য আন্দোলন করছি। যে দেশে অর্ধেক অধিকার আর দ্বিগুন দায়িত্ব নিয়ে অসংখ্য নারী জীবন কাটায় সেখানে সমনাগরিক সংক্রান্ত স্লোগানটি অর্থবহ।
সম্পত্তির উত্তরাধিকার, বিয়ে, সন্তানের অভিকাককত্বসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক আইনের চোখে বাংলাদেশের নারীরা সমান নয়। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গীতে রয়েছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক এবং অবমাননাকর মনোভাব। কেউ নারীকে নিয়ে কাব্য করেন, অনেকে নারী নির্যাতনে পারদর্শী। কিন্তু কিভাবে নারীকে বন্ধু আর সহযোদ্ধা ভাবতে হয় সেটা বেশীরভাগের জানা নেই। “সমতা” কোন তাত্ত্বিক বিষয় নয়-জীবনচর্চার মাধ্যমেই সমতায় বিশ্বাসের প্রমাণ দিতে হয়। কাউকে সমান হিসেবে সম্মান করা কি এতটা কঠিন?
নারীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষমতায়নের সংগ্রামটা খুব দীর্ঘ। সঠিক আইন এবং তার প্রয়োগ জরুরি। পাশাপাশি প্রায়োজন নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে নারী এবং পুরুষ উভয়ের মুক্তি দরকার-যেটা শেখা শুরু হতে পারে শৈশবে, পরিবার থেকে। তাহলে নারীর সমানাধিকার আদায়ের যাত্রা অনেকদূর এগিয়ে যাবে; নারীরা নিজেদের মেধা এবং যোগ্যতা অনু্যায়ী সবক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারবে। সেই সমাজ হবে সবার জন্য আরো বাসযোগ্য এবং সুন্দর। এই নতুন সমাজ সৃষ্টিতে আপনি অংশগ্রহণ করবেন তো?







